কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৮ জুন ২০১৭

রাজধানীতে ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৭ এর উদ্বোধন


প্রকাশন তারিখ : 2017-06-17

 

 

‘স্বাস্থ্য পুষ্টি অর্থ চাই, দেশি ফলের গাছ লাগাই’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৭ এর আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর  ফার্মগেটে আ. কা. মু.  গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটোরিয়াম চত্বরে ১৬-১৮ জুন তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল প্রদর্শনী চলবে। 

 

ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেন, আমাদের আগে যে খাদ্যের অভাব ছিলো, তা এখন আর নেই। আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে আমরা এ সফলতা অর্জন করেছি। আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে, কর্ষিত জমির পরিমান কমেছে। তারপরও বাংলাদেশ কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। মাননীয় মন্ত্রী বলেন আগে ফলসহ বিভিন্ন ফসলের স্টক বিদেশ থেকে আনা হতো এখন আমরা নিজেরাই তৈরি করছি। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের কারণে। খাদ্যে পুষ্টির বিষয় বিশেষ নজর দেয়ার বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে এখনো যথেষ্ট পুষ্টির অভাব রয়েছে। আমাদের নতুন প্রজন্ম তাদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি দিয়ে এ পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে। আমরা আস্তে আস্তে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছি, আমরা আমাদের খাদ্যে ও ফলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রেখেই এগিয়ে যাব। আমাদের প্রচলিত ফলের উন্নয়নের মাধ্যমে ফলের সরবরাহ সারা বছর নিশ্চিতকরণে কৃষির অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। 


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, আমরা আম উৎপাদনে সপ্তম ও পেয়ার উৎপাদনে বিশ্বে অষ্টম স্থানে আছি। অন্যান্য ফলের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে লিচুর দীর্ঘ জীবনকালের জাত উদ্ভাবনের বিষয়ে গবেষকদের প্রতি আহবান জানান। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমরা দেশের চল্লিশ ভাগ ফলের উৎপাদন ৮ মাসব্যাপী করতে সক্ষম হয়েছি। যা আগে ছিল মাত্র ৪ মাসব্যাপী। দেশের ফলের উৎপাদন আরও বাড়াতে প্রযুক্তির দিকে আমাদের বেশি নজর দিতে হবে। মাননীয় কৃষিমন্ত্রী পুষ্টি চাহিদা পূরণে সংশ্লিস্ট সবাইকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কাঁঠালকে জাতীয় ফল হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কাঁঠাল এমন একটি ফল, যার কোনো অংশই ফেলানো যায় না। কাঁচা কাঁঠালকে ভেজিটেবল মিট হিসেবে ব্যবহার ও বিদেশে রপ্তানির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন। 


এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে আ. কা. মু. গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটোরিয়াম চত্বর পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালি শেষে অতিথিবৃন্দ ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ  ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৭ এর উদ্বোধন করেন এবং স্টল পরিদর্শন করেন। ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৭ উপলক্ষে সকাল ১০টা ১৫মিনিটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটেরিয়াম, ফার্মগেট, ঢাকায় সেমিনারের আয়োজন করা হয়। 


কৃষি সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এর সভাপতিত্বে ‘খাদ্য, পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় দেশি ফলের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের  অধ্যাপক ড. এম মোফাজ্জল হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. মোশারফ হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. গোলাম মারুফ। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ মো. কুদরত-ই-গনী।


অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ফল শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জনগণের মাঝে দেশীয় ফল বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তক পোস্টার, লিফলেট ও বুকলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক ‘কৃষিকথা’ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ, জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ বেতার ও টেলিভিশনে ফলদ বৃক্ষ রোপণ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৭ উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ সবের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে ফলের চারা/কলম বিতরণ, সেমিনার, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি।


Share with :
Facebook Facebook