কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ উন্নয়নে পারিবারিক কৃষি

এ বছরের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘পারিবারিক কৃষি : প্রকৃতির সুরক্ষা, সবার জন্য খাদ্য’ এর যথার্থতা  হলো এ রকম যে, পরিপূর্ণ পারিবারিক সম্পৃক্ততায় কৃষির সব শাখায় উন্নত পদ্ধতি চর্চার মাধ্যমে পরিবেশকে অক্ষুণ্ন রেখে পণ্য উৎপাদন ও বিশ্ব চাহিদা পূরণ করা। কৃষিভিত্তিক সব শাখা বলতে ফসল, মাৎস্য, প্রাণিসম্পদ, ফলজ ও বনজসহ সবকিছুকেই বুঝানো হয়েছে। জাতিসংঘ কর্তৃক ২০১৪ সনকে International Year of Family Farming (IYFF) ঘোষণা করা হয়েছে। স্লোগানটি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মানানসই ও বাস্তবায়নযোগ্য। এ ক্ষেত্রে আমাদের যথেষ্ট করণীয় আছে।

মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হলো খাদ্য। সরকারের তাই প্রধান লক্ষ্য মানুষের এ মৌলিক চাহিদা যেন নিশ্চিত হয়। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার দেশের জনগণের এ মৌলিক চাহিদা পূরণে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে এবং এ তৎপরতা অব্যাহত আছে। গত কয়েক দশকে দেশের জনসংখ্যা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় তার সমহারে বিপরীতমুখী প্রবণতায় কৃষি জমি কমে গেছে। এ ছাড়াও কৃষি উৎপাদনে ঋণাত্মক ভূমিকার প্রভাবকগুলো যেমন আবহাওয়া পরিবর্তন, বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, পোকামাকড়ের উপদ্রব ইত্যাদির কারণে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদার সঙ্গে তালমিলিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়াস অব্যাহত আছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সনে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ১০ লাখ টন। তখন মানুষ ছিল সাড়ে ৭ কোটি। দেশে এখন মানুষ প্রায় ১৬ কোটি। মানুষ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আবাদি জমি প্রায় ৩০ শতাংশ (স্বাধীনতা উত্তরকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ) কমে যাওয়ার পরও খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে তিনগুণেরও বেশি। খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়ানোর গতিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তালিকায় এখন বাংলাদেশ। হেক্টরপ্রতি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এখন বাংলাদেশ অনেক দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। একই জমিতে দুই বা ততোধিকবার চাষ তো হচ্ছেই। ক্ষেত্র বিশেষে চারবারও কোনো কোনো জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নেও বাংলাদেশ সফলতার পরিচয় দিয়েছে। ক্ষুধা সূচকেও বাংলাদেশের অগ্রগতি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে। ২০১৩ সনের ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (IFPRI) প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাত্র এক বছরেই এ সূচকে ১১ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। দেশে এখন আর চাল আমদানি করতে হয় না। পর্যাপ্ত মজুদ রেখে বর্তমানে চাল রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যানেল (IPCC) তাদের চতুর্থ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলেছিল, চলতি শতকের মধ্যে বাংলাদেশের ধান ও গমের উৎপাদন যথাক্রমে ২০ ও ৩০ শতাংশ কমবে। কিন্তু উৎপাদন কমেনি বরং তাদের ভবিষ্যৎ বাণীকে ভুল প্রমাণ করে গত পাঁচ বছরে ধান ও গমের উৎপাদন গড়ে ২.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ হারে বেড়েছে।

এক্ষেত্রে কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের কর্মীরা কৃষকের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। নেপথ্যে গবেষণাগারের কর্মীরা প্রতিনিয়ত কৃষক ও দেশের চাহিদা মোতাবেক উৎপাদন বৃদ্ধির প্রযুক্তি এবং কলাকৌশল সরবরাহ করে আসছেন। এসব তৎপরতার পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন কৃষক সমাজের একান্ত আপনজন বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, এমপি। ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন দিচ্ছেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, কৃষকরত্ন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। আমি আমার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এজন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

বিশ্ব খাদ্য সম্মেলন ১৯৯৬ অনুযায়ী ‘খাদ্য নিরাপত্তা তখনই আছে বলে মনে করা হয় যখন প্রত্যেক নাগরিকের সব সময়ের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্তির প্রত্যক্ষ ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা থাকে যা তাদের সক্রিয় ও সুস্থ জীবন নিশ্চিতকরণের জন্য সঠিক পরিমাণ খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে’। খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে বিশ্ব খাদ্য সম্মেলন ১৯৯৬ এ গৃহীত এ সংজ্ঞা প্রায় সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশে হচ্ছে। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ খাদ্য আছে ঠিকই; কিন্তু দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষ অর্থাভাব কিংবা অজ্ঞতার কারণে এখনও অপুষ্টির শিকার। এ পুষ্টি চাহিদা পূরণ সহজেই সম্ভব যদি Family Farming এর মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালানো যায়। অধিক উৎপাদন ও বিপণনকে উৎসাহিত করতে সরকার কৃষি খাতে করমুক্ত আয়ের সীমা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করেছে। গত বছরের চেয়ে ১১১ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য। উৎপাদনশীল কার্যক্রম গ্রহণ করলে আমার ধারণা, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার যে কোনো সম্ভাবনাময় পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ বরাদ্দ দিতে পারে। পাশাপাশি কৃষকদের উপকরণ সহায়তা দিয়ে কৃষি পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহী করা হচ্ছে। কৃষি ঋণ সহজে পেতে ১০ টাকা দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। Family Farming ধারণায় গড়ে ওঠা কৃষি উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের জন্য ঋণদান যে কোনো ব্যাংকের জন্য অনেক সহজ। সেক্ষেত্রে ওই ধারণার  আলোকে অনেক কর্মসূচি গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, জনসাধারণের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিবেশনায় পুষ্টির বিভিন্ন উপাদানের ঘাটতি বাংলাদেশে সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছেন। ফলে এরা দৈহিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছেন এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সমগ্র পরিবার, সমাজ ও দেশ এজন্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।  পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণের যথেষ্ট প্রযুক্তি ও কলাকৌশল আমাদের হাতে আছে। শিশুরা যেন পরিপূর্ণ পুষ্টি নিয়ে স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারে সেজন্য এ চাহিদা মোকাবিলায় সরকার ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে। আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে, কৃষির আদি মাতা হলো নারী। আর একজন নারীকে কেন্দ্র করেই একটি পরিবার গড়ে ওঠে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা নারীদের কৃষি ও কৃষি কাজের উন্নত কলাকৌশল বাস্তবায়নের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে দূরে রাখি। এটা Family Farming ধারণার বিপরীত। আমাদের গ্রামীণ জনপদে এখনও পর্যন্ত  একটি পরিবার যে পরিমাণ জমি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে তা ওই পরিবারের পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট। Family Farming ধারণাকে অনুসরণ করে যদি বাড়ির আঙিনায় বিজ্ঞানসম্মত প্রযুক্তি ও কলাকৌশল ব্যবহার করে শাকসবজি, ফল, ফুল, ঔষধি গাছ, মাছ চাষ ও সংরক্ষণ, হাঁস-মুরগি এবং গরু-ছাগল লালন পালন করা যায়; তবে একটি পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণে কৃষি পণ্য কিনতে বাজারে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। বাংলাদেশে কৃষির বাণিজ্যিকীকরণে খণ্ডিত কৃষি জমি একটি বড় প্রতিবন্ধক। একটি নির্দিষ্ট এলাকার উপযোগী নির্দিষ্ট ফসল চাষে community approach এর মাধ্যমে চাষিদের Family Farming ধারণায় ক্রপ জোনিং করে কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে যদি কৃষি পণ্য উৎপাদন করা যায় তবে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মধ্যম ও বড় সব ধরনের চাষির উৎপাদনে একটি বাজার ব্যবস্থা সেখানে গড়ে উঠতে পারে। এর ফলে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ খরচ কম হবে এবং সবাই বাজারে পণ্য কেনাবেচার মাধ্যমে লাভবান হতে পারেন।
বাংলাদেশে কৃষি পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ। যদি ১ কোটি পরিবারে একটি করে গাভী থাকে তবে তা থেকে কমপক্ষে ২০ কোটি লিটার দুধ পাওয়া যেতে পারে। জনপ্রতি প্রতিদিন ২৫০ মিলি হিসেবে সবার প্রয়োজনে দুধের চাহিদা হতে পারে ৪ কোটি লিটার।  কিন্তু বর্তমানে চাহিদার মাত্র ২২% দুধ দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। সে হিসেবে আমরা জনপ্রতি দিনে মাত্র ৯১ মিলি দুধ পাচ্ছি। শিশু খাদ্য হিসেবে দুধের চাহিদার সিংহভাগই বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আনতে হচ্ছে। গোখাদ্যের অভাব দেশে হওয়ার কথা না। অধিক উৎপাদনক্ষম প্রজাতির গরু এবং তাদের খাদ্য উন্নতজাতের ঘাস দেশেই আছে। খাল, বিল, নদী নালার পাড়, রাস্তার ধারে ও অন্যান্য পরিত্যক্ত জমিতে পরিকল্পনামাফিক ঘাস উৎপাদন করে গো-খাদ্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। গরু, ছাগল, দুধ এবং ঘাস বিক্রি করে গ্রামীণ মহিলারাও স্বাবলম্বী হতে পারেন।

খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ
খাদ্য নিরাপত্তা বলতে খাদ্যের প্রাপ্যতা  ও মানুষের খাদ্য ব্যবহারের অধিকারকে বোঝায়। কোনো বাসস্থানকে তখনই ‘খাদ্য নিরাপদ’ বলা যায়, যখন এর বাসিন্দারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় বসবাস করেন না। বাংলাদেশে এখন একটি লোকও পাওয়া যাবে না যে না খেয়ে রাত্রি যাপন করে।  বাংলাদেশে  এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য মজুত আছে। বর্তমান সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দানা শস্য উৎপাদনের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করায় খাদ্য নিরাপত্তা আরও  নিশ্চিত হয়েছে। খাদ্যের ভাণ্ডার হাওর অঞ্চলে রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য অবকাঠামো বৃদ্ধির কার্যক্রম চলছে, এলাকা উন্নয়নের আরও  পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সে অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও  ছোটখাট  শিল্প স্থাপনের জন্য  সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ, এসএমই ঋণের সম্প্রসারণসহ অনেক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন; যা এ অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন ও উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন
যারা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খাদ্য উৎপাদন করছেন তারা শুধু অর্থের কথা, লাভের কথা চিন্তা করেই পণ্য উৎপাদন করছেন। পণ্যটি ভোক্তাকে কতটুকু সন্তুষ্ট করবে এটা তাদের মাথায় থাকে না।  যে কারণে কৃষি পণ্যে নির্বিচারে বিষাক্ত দ্রব্য প্রয়োগের মাধ্যমে তার বাহ্যিক রূপটি শুধু সুন্দর রাখার ব্যবস্থা করা হয়। বেশি-লাভের আশায় অপরিপক্ব ফসল তুলে রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। দেশে যদি পুরো পরিবার কোনো পণ্য উৎপাদনে জড়িত থাকে এবং পরিবারের সব সদস্যদের পারস্পরিক বোঝাপড়ায় ‘নিজেরা খাব এবং বাজারে বিক্রি করব’ এ ধারণায় পণ্য উৎপাদন করে তাহলে উৎপাদিত পণ্যের গুণমান অব্যশ্যই ভালো থাকবে। জাতি এক্ষেত্রে বিষাক্ত খাবার ভক্ষণের হাত থেকে বেঁচে যেতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় যে, বাপ দাদা বা তারও পূর্বপুরুষদের সময়ে লাগানো গাছপালা থেকে তেমন ভালো উৎপাদন হচ্ছে না। এগুলো দীর্ঘদিন একই পরিবেশে বেড়ে ওঠায় তা হয়ে  থাকে রোগ প্রতিরোধী। এগুলোকে উৎপাদনমুখী করার জন্যও আছে প্রযুক্তি যা ‘টপ ওয়ার্কিং’ নামে পরিচিত। অনাবাদি ফলগাছগুলোকে সার ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ছোঁয়া দিয়ে উৎপাদনের ধারায় ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।

সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু হলো একটি পরিবার। কাজেই পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ হলে সভ্যতার ক্রমবিকাশও সহজ হয়। পুষ্টির অভাবে মানুষের স্বাভাবিক চিন্তা-চেতনার বিকাশ ব্যাহত হয়। মানুষকে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরিয়ে আনতে সুস্থ মানুষের প্রয়োজন। এ সুস্থ মানুষ সৃষ্টির জন্য পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ জরুরি। যা ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’ ধারণার বাস্তবায়ন থেকে সহজ প্রাপ্য। একটি বাড়ি বা খামারের আকার কী হবে এটা চিন্তা না করে তার প্রতি ইঞ্চি জমিকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা যায় এবং বাড়তি আয় রোজগারের মাধ্যমে উন্নত মননশীলতার চর্চায় সে অর্থ ব্যয় করা যেতে পারে। আকার আকৃতি বিবেচনায় না এনে আলোক চাহিদা, মাটি ও বেড়ে ওঠার প্রকৃতিকে বিশ্লেষণপূর্বক স্থান ও সময়ানুযায়ী ডিজাইন করে শাকসবজি, ফল, ফুল, ঔষধি গাছ, মাছ চাষ ও সংরক্ষণ, হাঁস-মুরগি, কোয়েল পাখি, কবুতর এবং গরু-ছাগল, খরগোশ ও মৌমাছি লালন পালনসহ বাড়তি কর্মসংস্থানের জন্য কুটির শিল্প, মাশরুম চাষ ও প্রক্রিয়াজাত করা, সেলাই, মুড়ি, খৈ, চিড়া, দই ও আচার তৈরি ইত্যাদি কাজকর্মগুলো করা যেতে পারে। এভাবে গ্রাম বাংলার খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থ ও সংস্কৃতি প্রবাহের মূল স্রোতধারা হতে পারে পারিবারিক কৃষি।
 
 
কৃষিবিদ মো. আব্বাস আলী*
* মহাপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর

Share with :

Facebook Facebook