কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১২ এপ্রিল ২০১৫

কেসিএম পাওয়ার টিলার


Kesiem Power Tyler
বর্তমানে দেশের অধিকাংশ জমি (শুকনো বা কাদা) পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করা হয়। প্রচলিত পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি তৈরি করতে ৫-৬টি চাষের প্রয়োজন হয়। KGF(কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন), CASEED এবং MAWTS-এর যৌথ উদ্যোগে উদ্ভাবিত কেসিএম পাওয়ার টিলার দিয়ে সেখানে ২/৩টি চাষ যথেষ্ট।এই যন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুকনো জমিতে অর্থাৎ যে জমির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পায়ে কাদা লাগে না, এমন জমিতে গভীরভাবে চাষ দিয়ে অধিক ফসল পাওয়া সম্ভব। শুকনো জমিতে মোল্ডবোর্ড লাঙল সংযোগ করে জমিতে পূর্ববর্তী শস্যের অবশিষ্টাংশ ও ঘাস মাটির নিচে চাপা দেয়া সম্ভব, যা পরে মাটির সাথে মিশে জৈবসারে পরিণত হয়। মোল্ডবোর্ড লাঙলের ফলা প্রথম চাষে ৪-৫ ইঞ্চি এবং পরবর্তী চাষে ৬-৭ ইঞ্চি পর্যন্ত গভীরে মাটি কেটে উল্টিয়ে দেয়। ফলে উপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি উপরে উঠে আসে, রোদ ও বৃষ্টির ফলে মাটির গুণগত পরিবর্তন হয়।

প্রধান বৈশিষ্ট্য

পাওয়ার টিলারের সাথে সংযুক্ত মোল্ডবোর্ড অথবা ডিস্ক প্লাউ উভয় ক্ষেত্রে গভীরে মাটি কেটে ডান দিকে মাটির ফালি উল্টিয়ে দেয়।

দুই বা তিনটি চাষ দিয়ে গভীরভাবে মাটি উল্টিয়ে জমি তৈরি করা ও ফসল আবাদ করা যায়।
মোল্ডবোর্ডের এবং লোহার চাকার চাপে ঘাসবিহীন শুকনো জমিতে মাটির স্লাইস প্রথম চাষেই অনেকটাই ভেঙে টুকরো হয়ে যায়।

প্রথম চাষে ৪-৫ ইঞ্চি গভীরে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাষে ৬-৭ ইঞ্চি গভীরে (জমির প্রকারভেদে) চাষ করা সম্ভব। চাষের প্রশস্থতা প্রায় ১২ ইঞ্চি করা সম্ভব।
দৈনিক প্রায় চার একর জমি ভালোভাবে চাষ করা (প্রায় ৮ ঘণ্টায়) সম্ভব।
সাধারণ চালকও পাওয়ার টিলারটি চালাতে পারে।

যন্ত্রের বিবরণ
যন্ত্রটি ২০১০-২০১১ সনে কেসিএমের যৌথ উদ্যোগে উদ্ভাবিত হয়েছে।
শক্তির উৎস-৮.৫ অশ্বশক্তির সাইফেং ইঞ্জিন।
লাঙলের সংখ্যা দুইটি মোল্ডবোর্ড এবং দুইটি ডিস্ক প্লাউ/লাঙল।
ইঞ্জিন ছাড়া বাকি অংশ স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত লৌহ ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে তৈরি।
দুইটি লোহার চাকার সাথে অনেক পেগ লাগানোর ফলে শুকনো ও কাদা জমিতে মাটির ফালি ভালোভাবে ভেঙে টুকরো টুকরো করে জমিকে তৈরি করে।
কার্যপ্রণালী
উঁচু ও শুকনো জমিতে চাষের জন্য দুইটি মোল্ডবোর্ডে লাঙল যা একটি ফ্রেমের সাথে সংযুক্ত, সেটি পাওয়ার টিলারের বডির সাথে হিচিং বোল্টের সাহায্যে মাউন্ট করা হয়।

কাদা জমিতে চাষের জন্য দুইটি ডিস্ক লাঙল, যা একটি ফ্রেমের সাহায্যে সংযুক্ত আছে উহা একটি হিচিং বোল্টের সাহায্যে মাউন্ট করা হয়।

পরীক্ষার ফলাফল
কার্যক্ষমতা : প্রতি দিন ৮ ঘণ্টায় প্রায় চার একর শুকনো বা কাদা জমি তৈরি করা সম্ভব।
পাওয়ার টিলারের মূল্য : ৮.৫ অশ্বশক্তি সম্পন্ন সাইফেং ইঞ্জিনসহ ৭০ হাজার টাকা।

জমি চাষের অবস্থা : চীনা পাওয়ার টিলারের চাষ অপেৰা কেসিএম পাওয়ার টিলারে গভীরে ও মাটি উল্টিয়ে ভালোভাবে জমি তৈরি করা সম্ভব। ফলে একই পরিমাণ জমিতে চীনা পাওয়ার টিলারের বিপরীতে কেসিএম টিলার দ্বারা তুলনামূলক বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।
 
চালানোর অবস্থা : সমীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, চীনা টিলারে বসে চালানোর ফলে ১৫টির অধিক শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। সে তুলনায় কেসিএম টিলার হেঁটে চালানোর ফলে শারীরিক ধকল বা সমস্যার কারণ অনেক কম।
 
মেরামত খরচ : অন্যান্য পাওয়ার টিলারের যন্ত্রাংশ সংখ্যায় বেশি, অপরদিকে কেসিএম পাওয়ার টিলারের যন্ত্রাংশ সংখ্যায় অনেক কম সেজন্য মেরামত খরচও কম হবে।
 
বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন-
ফোন : ৯১২২৫২৯, মোবাইল : ০১৭১২০৮২৬৫৬

Share with :
Facebook Facebook