কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৬ এপ্রিল ২০১৫

গর্জন তিল


Sesame

ফসলের নাম : গর্জন তিল
উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম : Guizotia Abyssinica Coss.
পরিবার :Comositae.

 

১. পুষ্টিমূল্য : লিনোনিক ফ্যাটি এসিড ও প্রোটিন আছে।

২. ভেষজ গুণ : কোলেস্টেরল ফ্রি। আবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড সমূহের উৎস হিসেবে কাজ করে।

৩.ব্যবহার : ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও সাবান ও প্রসাধনী তৈরিতে এর ব্যবহার হয়। এর খৈল গো-মহিষের খুব উপাদেয় খাদ্য।

৪. উপযুক্ত জমি ও মাটি : গর্জন তিল প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাষ করা যায়। তবে দো-আঁশ এবং বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভালো হয়।

৫.  জাত পরিচিতি : শোভা।
 

জাতটি বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। ১৯৮৮ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক চাষের জন্য অনুমোদিত হয়। গাছের কান্ড সাধারণত সবুজ ও বেগুনী রংয়ের হয়। কান্ড ও পাতায় লোমের মতো থাকায় হাত দিয়ে ধরলে খসখসে মনে হয়। তবে সেগুলো বেশ নরম। ফুল ছোট ও হলুদ রংয়ের। বীজ সূচাকৃতির এবং ১.২৫ সে.মি. পাতলা ও বেশ মসৃন। ১০০০ বীজের ওজন ৩-৪ গ্রাম। জীবনকাল ১০৫-১১০ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ১.০৫-১.১০ টন।
 

৬.  বীজ বপন :  জমিতে বীজ ছিটিয়ে বপন। তবে সারিতে বুনলে সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৩০ সে.মি.। হেক্টর প্রতি বীজের পরিমাণ ৭.৫-৮.৫ কেজি।
 

৭.  বপন সময় : কার্তিক মাস
 

৮.  সার ব্যবস্থাপনা :জমির উর্বরতা ও কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের ভিত্তিতে সারের পরিমাণ কমবেশী হতে পারে। তবে নিম্নবর্ণিত হারে সার ব্যবহার করতে হবে।

 

সার     

 

প্রতি হেক্টরে  (কেজি)

 

ইউরিয়া

 

৭০.৮০ কেজি

 

টিএসপি

 

১১০-১৩০ কেজি

 

এমওপি

 

৪৫-৫৫ কেজি

 

অর্ধেক ইউরিয়া ও বাকি অন্যসব সার শেষ চাষের সময় জমিতে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পর কুড়ি আসার সময় উপরি প্রয়োগ করতে হবে।


৯.  সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা :জমিতে সেচ দেয়ার প্রয়োজন হয়না, কিন্তু মাটিতে রস না থাকলে সেচ দেয়া প্রয়োজন। জমিতে আগাছা দেখা দিলে নিড়ানি দিয়ে উহা তুলে ফেলতে হবে।


১০. পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা :

পোকার নাম : গর্জন তিল ফসলের ৰতিকর পোকামাকড় এখনও পাওয়া যায়নি।


রোগের নাম : পাতা ঝলসানো রোগ

ভূমিকা : অলটারনেরিয়া প্রজাতির ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে।


ক্ষতির নমুনা : এ রোগের আক্রমণে প্রথমে পাতার উপর অসম আকৃতির গাঢ় বাদামী বর্ণের দাগ পড়ে। দাগগুলো ধীরে ধীরে বড় হওয়ার পর অনেকগুলো দাগ একত্রিত হয়ে পাতার অধিকাংশ স্থান দখল করে ফেলে। আক্রমণ বেশী হলে পাতা ঝরে পড়ে।


ব্যবস্থাপনা : রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম রোভরাল-৫০ ডবিৱউ পি অথবা ডাইথেন-এম-৪৫ মিশিয়ে জমিতে ২/৩ বার প্রয়োগ করতে হবে।


১২.  ফসল তোলা : ১০৫-১১০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়।

 

Share with :
Facebook Facebook