কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ নভেম্বর ২০১৬

জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-৭২ কর্তন এবং ফলাফল প্রদর্শন উপলক্ষে আটঘরিয়ায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত


প্রকাশন তারিখ : 2016-11-23

বাংলাদেশে মানবদেহে জিংকের ঘাটতি একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। এ সমস্যার সমাধান কল্পে ইতোমধ্যেই দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ দিন গবেষণার মাধ্যমে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-৬২, ব্রি ধান-৬৪, ব্রি ধান-৭২ উদ্ভাবন করেছেন। বর্তমান রোপা আমন মৌসুমে ব্রি ধান-৬২ এবং ব্রি ধান-৭২ একটি স্বল্প জীবন কাল বিশিষ্ট অধিক ফলনশীল জাত হিসেবে চাষীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ জাতের ধানকে ব্র্যান্ডিং করা এবং সর্ব সাধারনের দেহের জিংক উপাদানের ঘাটতি পূরনার্থে জেলার সকল উপজেলায় সরকারী ভাবে কৃষকের জমিতে প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে আবাদ করে এর লাভজনক দিক এবং উপকারিতা মাঠ দিবসের মাধ্যমে জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার অব্যাহত প্রচেষ্টা চলছে। এমন একটি মাঠ দিবস গত কাল ২২ নভেম্বর আঠঘরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এবং হারভেস্ট প্ল্যাস বাংলাদেশ নামক একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-৭২ কর্তন এবং এর ফলাফল প্রদর্শন ও উপকারিতা প্রচার কল্পে আটঘরিয়া উপজেলার সঞ্জয়পুর গ্রামে বিশাল লোকারন্যে অনুষ্ঠিত হয়।
আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আলীমুন রাজিব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাঠদিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনাস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ বিভূতি ভূষন সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাঠদিবসে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ সরকার সফি উদ্দিন আহমেদ,হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ এর গবেষনা উন্নয়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা এ.টি.এম ফজলুল করিম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপপরিচালক কৃষিবিদ বিভূতি ভূষন সরকার বলেন,এই ধানের চাউলে প্রতি কেজিতে ১৯ মি.গ্রাম জিংক এবং ২০ মি.গ্রাম প্রোটিন আছে। বাংলাদেশে জিংকের ঘাটতি পূরনার্থে এ ধানের গুরুত্ব অপরিসীম। দেহে জিংকের ঘাটতিজনিত কারনে হাবা গোবা,খাটো হওয়া, বুদ্ধির  বিকাশ বাধাগ্রস্থ সহ নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজে বাধা সৃস্টি করে। এ ধানের জীবন কাল অন্যান্য ধানের তুলনায় কম এবং বিঘাপ্রতি ফলন ২১ থেকে ২৪ মন। তিনি উপস্থিত সকল কৃষক কে এ ধানের আবাদে এগিয়ে আসার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রশান্ত কুমার সরকার। প্রদর্শনী প্লটের আবাদকারী চাষী মিনাজ উদ্দিন বলেন, এ ধানের ফলন অন্যান্য জাতের চেয়ে বেশি তাছাড়া ধান তাড়াতাড়ি  পাকে এবং ভাত ও সুস্বাদু। বীজের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। তিনি আগামীতে ৮ বিঘা জমিতে এ ধানের আবাদ করার আশা ব্যক্ত করেন। এর আগে চাষীদের উপস্থিতিতে অতিথি বৃন্দ প্রদর্শনী প্লটের নমুনা শস্য কর্তন পরিদর্শন করেন এবং মাড়াই ঝাড়াই শেষে শুকনো অবস্থায় বিঘায় ২২.০৯ মন ফলন অবলোকন করেন। এ কার্যক্রম দেখার জন্য কিষাণ কিষানীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়।


Share with :