কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে পারিবারিক খামার

১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে পারিবারিক কৃষি : প্রকৃতি সুরক্ষা, সবার জন্য খাদ্য (Family Farming: Feeding the world, caring for the earth.) অর্থাৎ পৃথিবীকে যত্নে রেখে পারিবারিক খামারের মাধ্যমে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন। এ প্রতিপাদ্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে পারিবারিক খামারে শাকসবজি, ফলমূল, ফসল, গৃহপালিত পাখি, গৃহপালিত পশু, মাছ ইত্যাদি কৃষি পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করা। তবে শর্ত হচ্ছে পৃথিবীর পরিবেশ যেমন- মাটি, পানি, বায়ু ইত্যাদি সুস্থ রাখতে হবে। মূল বিষয় হচ্ছে- পারিবারিক অর্গানিক ফার্মিংয়ের মাধ্যমে মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ২০১৪ সনকে পারিবারিক খামার বর্ষ ঘোষণা করেছে। ক্ষুধামুক্ত ও সুস্থ মানুষ দিয়ে বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে (FAO) এর জন্মকাল ১৯৪৫ সন থেকে ১৬ অক্টোবরকে স্মরণ করে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন করছে। বিশ্বের সব মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতার  মাধ্যমে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো প্রতি বছর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন করে। বাংলাদেশেও কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন করে।
 
খাদ্য নিরাপত্তা
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (১৯৯৬) মতে, খাদ্য নিরাপত্তা হচ্ছে- সব মানুষের কর্মক্ষম ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য চাহিদার বিপরীতে পছন্দমতো পর্যাপ্ত নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্তির বাস্তব ও আর্থিক ক্ষমতা থাকা। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জিত হয়েছে কি না বোঝার উপায় হচ্ছে- জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ থাকবে, সময় ও অঞ্চলভেদে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে, সবাই খাদ্য ক্রয় বা সংগ্রহ করতে পারবে, পুষ্টিকর ও নিরাপদ স্বাস্থ্যকর খাদ্য সহজলভ্য থাকবে। অর্থাৎ খাদ্য নিরাপত্তার মূল বিষয় তিনটি ১. খাদ্যের সহজ প্রাপ্যতা।  ২. খাদ্যের লভ্যতা।  ৩. স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্য। (FAO) এর খাদ্য নিরাপত্তার সংজ্ঞানুসারে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা থেকে দূরে রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা দ্রুত নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ১৭টি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের জন্য করণীয় হচ্ছে ১. ফসলের উৎপাদন খরচ কমানো। ২. খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি। ৩. আবাদি জমি বাড়ানো। ৪.প্রাকৃতিক দুর্যোগসহনশীল জাত উদ্ভাবন। ৫. জলবায়ু পরিবর্তন উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবন। ৬. আন্তঃফসল, মিশ্র ফসল, রিলেফসল, রেটুন ফসল চাষ করা। ৭. সেচের জমি বৃদ্ধি করা। ৮. উফশী ও হাইব্রিড ফসল চাষ করা। ৯. শস্য বহুমুখীকরণ করা। ১০. জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও প্রচুর চারা উৎপাদন করা। ১১. রোগবালাই দমন করা। ১২. প্রতি ইঞ্চি জমি চাষ করা। ১৩. ধানক্ষেতে মাছ চাষ, পুকুরে মাছ-মুরগি-হাঁসের সমন্বিত চাষ করা। ১৪. রোগ ও পোকা দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা। ১৫. সহজশর্তে ঋণ দেয়া। ১৬. পশুপাখির জন্য জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ১৭. ভর্তুকি বাড়ানো। ১৮. সংরক্ষণাগার বাড়ানো। ১৯. কৃষি উপকরণ সরবরাহ। ২০. শস্যবীমা চালু করা। ২১. পতিত জলাশয়ে মাছ চাষ করা ইত্যাদি। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করা কঠিন কাজ, কারও একার পক্ষে সম্ভব না। কৃষক, শ্রমিক, কৃষিবিদ, কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষি বিশেষজ্ঞ, কৃষিকর্মী, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সবাই একত্রে কৃষি সমবায় গঠন করে কাজ করলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বিশ্ব খাদ্য পরিস্থিতি
বিগত ১৫০ বছরের মধ্যে পৃথিবী এখন সবচেয়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকটে আছে। কারণ পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে, খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে গাণিতিক হারে। অপরদিকে, আবাদি জমি কমছে, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি উপকরণ সংকটসহ হাজারো সমস্যার জন্য কৃষি উৎপাদন কাক্ষিত পর্যায়ে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ঋঅঙ এর হিসাবে পৃথিবীতে বর্তমানে ২২টি দেশ বেশি খাদ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির সূচকের তালিকায় ১৯৬টি দেশ রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৭, পাকিস্তানের ২২, ভারতের ৫১ ও চীন ১২৫তম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বিশ্বে ক্ষুধা নামক নীরব ঘাতকের হাতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার লোক মারা যাচ্ছে। ৮৫২ মিলিয়ন লোক ক্ষুধার্ত থাকে। ৮৮টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৭০তম। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী দেশের ৫০ শতাংশ পরিবার বছরের কোনো না কোনো সময় খাদ্য সংকটে থাকে, ২৫ শতাংশ নিয়মিতভাবে সারা বছর খাদ্য পায় না, ১৫ শতাংশ পরিবার সবসময় পরের বেলা খাবার নিয়ে চিন্তিত থাকে এবং ৭ শতাংশ মানুষ কখনোই তিন বেলা খেতে পায় না। বর্তমানে দেশের ৪০% মানুষ অতিদরিদ্র। প্রায় ২৮% মানুষ এক ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করছে। বিশ্বে প্রতিদিন না খেয়ে থাকে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ। উন্নত বিশ্বে প্রতি বছর খাদ্য অপচয় হয় ২২ কোটি টন।

দেশের খাদ্য উৎপাদন
দেশে প্রায় ১.৪৭% হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ২ থেকে ২.৫% হারে (৩.৫ লাখ টন) খাদ্যশস্যের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ কোটি ৬২ লাখ টন চাল প্রয়োজন। বর্তমান সরকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ তথা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথেষ্ট সচেতনতার সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যেমন- কৃষকদের উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান; আউশ ধান নেরিকা ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষে প্রণোদনা; বিনামূল্যে ফসলের বীজ ও সার প্রদান; প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সহায়তা প্রদান; বিএডিসি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মানসম্মত বীজ উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধিকরণ; জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবেলায় কৃষিক্ষেত্রে লাগসই প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ; ই-কৃষি বা ডিজিটাল কৃষি প্রযুক্তির প্রসার; মানসম্মত বীজের সরবরাহ; প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা; বাজার ব্যবস্থাপনা ও সেচের পরিধি বৃদ্ধিকরণ; ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধিকল্পে ডিম ছাড়ার মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকরণ এবং জেলেদের খাদ্য সহায়তা প্রদান; কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে খাদ্য নিরাপত্তা বিধানে ইউনিয়ন ও ব্লকপর্যায়ে কৃষি তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু উল্লেখযোগ্য। ইতোমধ্যেই এসব কর্মসূচির সুফল পাওয়ায় দেশের খাদ্যভাণ্ডার যথেষ্ট সমৃদ্ধ হয়েছে।

পারিবারিক খামারের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন
যে স্থানে কৃষিপণ্য উৎপাদন করা হয় সে স্থানকে খামার বলে। প্রতিটি পরিবারেই খামার করার সুযোগ রয়েছে। কারণ যার জায়গা জমি কিছুই নেই শুধু একটি ঘর আছে। সেও ঘরের চালে লাউ, মিষ্টিকুমড়া, পুঁইশাক, ধুন্দুল, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন লতালো শাকসবজি চাষ করতে পারে। বাংলাদেশে মোট পরিবারের সংখ্যা ২ কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৩টি। এর মধ্যে কৃষি পরিবার হচ্ছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৮৩ হাজার ১৮৩টি। এসব প্রতিটি পরিবারেই একটি করে খামার গড়ে তুলতে পারে। এ পরিবারগুলো অকৃষি খাতে জীবন নির্বাহ করা ১ কোটি ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৫৮০টি পরিবারের খাদ্যের জোগান দেয়। প্রতিটি কৃষি পরিবারের বাড়ির আঙিনায় শীতকালে পালংশাক, লালশাক, ডাঁটাশাক, শিম, লাউ, বরবটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লেটুস, ধনিয়া ইত্যাদি চাষ করা যায়। গ্রীষ্মকালে- চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, শসা, ধুন্দুল, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, কলমিশাক এবং বর্ষাকালে- কচু, ডাঁটাশাক, লালশাক, কলমিশাক ইত্যাদি চাষ করা যায়। প্রতিটি কৃষি পরিবারের আনাচে কানাচে- লেবু, পেয়ারা, বরই, পেঁপে, ডালিম ইত্যাদি ফল চাষ করা যায়। এছাড়াও প্রতিটি কৃষি পরিবারেই হাঁস, মুরগি, কবুতর, কোয়েল, গরু, ছাগল, ভেড়া পালন করার সুযোগ রয়েছে। বাড়ির কাছে ডোবা বা পুকুর থাকলে মাছ চাষ করা যায়। বাড়ির ও গোয়াল ঘরের ময়লা আবর্জনা, গোবর ইত্যাদি পচিয়ে জৈবসার তৈরি করে গাছে দেয়া যায়। এগুলো উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে এবং অতিরিক্ত কৃষিপণ্য বিক্রি করে আয়-রোজগার করা যায়। এতে দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি উৎপাদনে কাজে লাগবে।
দেশে আবাদি জমি ১% হারে কমছে, জনসংখ্যা বাড়ছে ১.৪৭% হারে। ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে পারিবারিক খামারের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে হবে। দেশে বর্তমানে ১ কোটি ১৮ লাখ বসতভিটা আছে। পরিবারের খাদ্যশস্য, শাকসবজি ও ফলমূলের চাহিদা মিটানোর জন্য প্রতিটি বসতবাড়িকে খামারে রূপান্তর করতে হবে। বর্তমান সরকারের কৃষিক্ষেত্রে একটি বড় কর্মসূচি হচ্ছে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’। এজন্য এবার বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্যটি বাংলাদেশের জন্য বেশি প্রযোজ্য। এ কর্মসূচিতে প্রতিটি পরিবারেই খাদ্যশস্য, শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, ডিম, গোশত, দুধ ইত্যাদি খাদ্য উৎপাদনের সুযোগ থাকবে।

পৃথিবীর পরিবেশ সুস্থ রেখে খাদ্য উৎপাদন
পৃথিবীর  মাটি, বায়ু ও পানি বিশুদ্ধ রেখে খাদ্য উৎপাদনের জন্য জৈব পদ্ধতিতে অর্থাৎ অর্গানিক ফার্মিং পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। অর্গানিক ফুড বা জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাদ্যের প্রতি সারা পৃথিবীর মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। অর্গানিক ফার্মিং থেকেই অর্গানিক ফুড বা জৈব খাদ্য তৈরি হয়। রাসায়নিক সার, রাসায়নিক কীটনাশক, গ্রোথ হরমোনসহ যে কোনো রাসায়নিক পদ্ধতি ছাড়া জৈবসার ও জৈব কীটনাশক দিয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ফসল উৎপাদন করাই হচ্ছে অর্গানিক ফার্মিং বা জৈব কৃষি। রাসায়নিক সার দিয়ে ফসল চাষাবাদ পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ফসল উৎপাদন খরচও বেশি হয়। জৈবসার দিয়ে ফসল চাষাবাদ পরিবেশসম্মত ও উৎপাদন খরচ কম হয়। উৎপাদিত খাদ্য স্বাস্থ্যসম্মত। বাংলাদেশে শাকসবজি উৎপাদনে প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করায় ইউরোপের দেশগুলো এদেশ থেকে শাকসবজি ক্রয়ে অনীহা প্রকাশ করেছে। জৈব উপায়ে খাদ্যশস্য ও শাকসবজি উৎপাদন করচ কম অথচ বেশি দামে দেশে ও বিদেশে বিক্রির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

রাসায়নিক সার পরিমাণে কম লাগে, সহজলভ্য ও দ্রুত কাজ করে। মাটির উর্বরতা সাময়িক বাড়লেও পরে ক্ষতি করে। রাসায়নিক সারে খরচ বেশি, মাটি, পানি ও বাতাস দূষিত করে এবং মাটির জীবাণু ও কেঁচো মারা যায়। মাটিতে জটিল যৌগ সৃষ্টি করে যা গাছ গ্রহণ করতে পারে না। গাছে  বিষাক্ততা সৃষ্টি করে। একটু বেশি হলে গাছ মারা যায়। ঝুঁকি বেশি। প্রয়োগ পদ্ধতি সঠিক না হলে কার্যকারিতা নষ্ট হয়। একটি সারে ২ থেকে ৩টি পুষ্টি উপাদান থাকে। একটি জৈবসারে ৮ থেকে ১০টি পুষ্টি উপাদান থাকে। রাসায়নিক সার জমিতে অল্প কিছু দিন স্থায়ী  হয় এবং প্রয়োগের পর অপচয় বেশি হয়। দেশে প্রতি বছর গড়ে ৩০ থেকে ৩২ লাখ টন রাসায়নিক সার ব্যবহার হচ্ছে। যা পরিবেশকে দূষণ করছে। রাসায়নিক সার উৎপাদনে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান লাগছে, যা পরিবেশ দূষণ করছে। কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পরিবেশ দূূষণের কথা চিন্তা করে রাসায়নিক সার উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। অথচ দেশে প্রতি বছর শতকরা ২০ভাগ রাসায়নিক সারের ব্যবহার রাড়ছে।

জৈবসার মাটিতে পানি ও পুষ্টি ধারণক্ষমতা বাড়ায়, মাটিকে উর্বর করে, মাটির কণাগুলো ফসলের উপযোগী করে, মাটির ছিদ্র বাড়ায় ফলে বায়ু ও পানি চলাচলে সুবিধা হয়। জৈবসার মাটির তাপমাত্রা ও অম্লত্ব-ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। জৈবসার গাছে পুষ্টি পরিশোষণে সহায়তা করে, মাটির লবণাক্ততা হ্রাস করে। বেলেমাটিকে দো-আঁশ মাটিতে রূপান্তরিত করে। মাটিতে অনুজীব ও কেঁচোর সংখ্যা বাড়ায়। জটিল যৌগকে সরল দ্রব্যে পরিণত করে। পারিবারিক খামারে বিষমুক্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন করে বিশ্বের সব মানুষের ক্ষুধা নিবারণ ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের প্রচেষ্টা বিশ্ব খাদ্য দিবসের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সফল হোক এটাই আমাদের কাম্য।
 
কৃষিবিদ মো. ফরহাদ হোসেন
* সহকারী অধ্যাপক, শহীদ জিয়া মহিলা কলেজ, ভুঞাপুর, টাঙ্গাইল। মোবাইল : ০১৭১১-৯৫৪১৪৩

Share with :

Facebook Facebook