কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ইক্ষু ফসলের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদান

মানুষটির সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হচ্ছে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, তিনি বাঙালির জাতির পিতা, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর বিশাল ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিতে সমসাময়িককালের একজন রাষ্ট্র নায়কের উদ্ধৃতিই যথেষ্ট। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিডেল ক্যাস্ট্রো আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বলেছিলেন ‘I have not seen the Himalayas. But I have seen Sheikh Mujib. In personality and in courage this man is the Himalayas. I have thus had the experience of witnessing the Himalayas. অতএব হিমালয় সদৃশ এ মানুষটির অবদান এত ছোট একটি নিবন্ধে  প্রকাশ করা সম্ভব নয়, সে অপারগতা প্রথমেই স্বীকার করে নেই। টুঙ্গিপাড়ায় ১৯২০ সালের ১৭ মার্চে যে শিশুটির জন্ম হয়েছিল কালের বিবর্তনে সেই হলো বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি আমাদের জাতির পিতা।


১৯৪৩ এর মন্বন্তর প্রত্যক্ষ করেই তিনি হয়ে ওঠেন স্পষ্টভাষী। এরপর ১৯৪৭ এর দেশভাগের পর ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর নির্বাচন, যুক্তফ্রন্ট সরকারের কনিষ্ঠতম সদস্য হিসেবে মন্ত্রিত্ব গ্রহণ, ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রদেশিক সরকারে মন্ত্রিত্ব গ্রহণ, ১৯৬৬ এর ৬ দফা অন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ এর ৭ মার্চের ভাষণ এবং পরবর্তীতে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা; এসবই তাঁর জীবনের মাইলফলক। এর মধ্যেই তিনি বিশাল উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন; সে কথা সবার জানা। আমরা এখানে শুধু ইক্ষু বিষয়ে তাঁর দর্শন এবং সে প্রেক্ষিতে তাঁর অবদান নিয়ে কিছু কথা বলব।


কৃষি প্রধান বাংলাদেশের কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূলভিত্তি। কৃষিকে ঘিরেই এ দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালিত হয়। তাছাড়া দারিদ্র্যবিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কৃষির অবদানই সবচেয়ে বেশি। এ দেশের বেশির ভাগ মানুষও কৃষির উপর নির্ভরশীল। বঙ্গবন্ধু মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন এদের উন্নতি না হলে দেশের উন্নতি হবে না, স্বাধীনতার সুফল আসবে না। তাই তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছিল কৃষিকে প্রাধান্য দেয়া। বিশেষ করে শিল্প ভিত্তিক কৃষি। পাকিস্তানি শাসন আমলে এ দেশে বিশেষত দেশের উত্তরাঞ্চলে শিল্পের কোন প্রসার ছিল না। একমাত্র চিনি শিল্পই এখানকার সম্পদ, যার বেশির ভাগই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে। তাই দেশ গড়ার দিকে নজর দিয়ে তিনি চিনি শিল্পকে নতুন করে সাজানোর জন্য জোর দিয়েছিলেন। ১৯৭২ সাল থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত (১৯৭৫) তাঁর কর্মকা- পর্যালোচনা করলেই এ কথার প্রমাণ পাওয়া যায়। যে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি ইক্ষু চারা পরীক্ষাগার নামে এদেশে ১৯৩১ সালে ঢাকার মনিপুরিপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে ঈশ্বরদীতে ১৯৫১ সালে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ইক্ষু গবেষণা স্টেশন) রূপলাভ করে তা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটিকে ‘বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামে পুনর্গঠিত করে ১৯৭৩ সালে তিনি ‘বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট’ স্থাপন করেন।  কারণ তিনি জানতেন গবেষণা ছাড়া কোন ফসলের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। বিদেশ থেকে জাত কিংবা প্রযুক্তি এনে দেশের কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই গবেষণার পাশাপাশি ইক্ষু চাষ বাড়ানোর এবং চিনি শিল্পের উন্নয়নের জন্য তিনি ‘নিবিড় ইক্ষু উন্নয়ন প্রকল্প’ ও ‘খামার আধুনিকীকরণ প্রকল্প’ গ্রহণ করেন। তিনি নতুন চিনিকল স্থাপন ও বিদ্যমান কয়েকটি চিনিকলের যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। চিনির পাশাপাশি গুড় শিল্পের উন্নয়নেও তার ছিল যথেষ্ট সদিচ্ছা। তাই আখ-চিনি-গুড় এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর ঐকান্তিক ভালোবাসা। তারই ধারাবাহিকতায় আজ যখন তারই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ দেশে তালগাছ রোপণের আহ্বান জানান তখন আমাদেরও বুঝতে বাকি থাকে না যে তিনি শুধু বজ্রপাত প্রতিরোধের জন্যই এ কর্মসূচি দেননি বরং বজ্রপাত প্রতিরোধের পাশাপাশি তালগাছ থেকে রস আহরণ করে, তার গুড় তৈরি করে দেশের মানুষ যেন আরো বেশি করে মিষ্টি খাবার গ্রহণ করতে পারে সে উদ্যোগও তিনি পরোক্ষভাবে দেশের মানুষকে নিতে বলেছেন। কারণ উপযুক্ত পরিমাণে মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণ ছাড়া দেশের মানুষের মেধা পরিপূর্ণ বিকশিত হবে না আর তা না হলে তিনি যে উন্নত এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কর্মসূচি নিয়েছেন তার সাথে তালমিলিয়ে এ দেশের সাধারণ মানুষ এগিয়ে যেতে পারবে না। তাই বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের আখ চিনি গুড় শিল্পের উন্নয়ন করতে হবে। এতে একদিকে যেমন বাড়বে আখচাষির আয় অন্যদিকে মিটবে মানুষের পুষ্টি চাহিদা, হবে মেধাশক্তির বিকাশ।

 

ড. মো. আমজাদ হোসেন১ ড. সমজিৎ কুমার পাল২

১মহাপরিচালক, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী, পাবনা। ২পরিচালক (গবেষণা), বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী, পাবনা, ফোন : ০৭৩২৬৬৩৬২৮, ই-মেইল : bsridg123@gmail.com


Share with :

Facebook Facebook