কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কৃষি কথা

পাতকুয়া : বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত (মাঘ ১৪২৩)

বাংলাদেশের বৃহত্তর জেলা রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা এবং ভারতের মালদা জেলা বরেন্দ্র  ভূমির অন্তর্গত। বরেন্দ্র অঞ্চল মূলত ২৩-৪৮-৩০ উত্তর অক্ষাংশ ও ২৬-৩৮ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮-০২ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ও ৮৯-৫৭ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। কর্কটক্রান্তি রেখা এ স্থানের সামান্য দক্ষিণ দিক দিয়ে চলে গেছে। বরেন্দ্র শব্দের সরল ও ব্যাকরণসম্মত অর্থ হচ্ছে দেবরাজ ইন্দ্রের বরে (বর+ইন্দ্র) অর্থাৎ অনুগ্রহ বা আশীর্বাদপ্রাপ্ত দেশ। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের মোট ১১ জেলায় ৭ লাখ হেক্টর জমিতে বরেন্দ্র এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁ জেলায় ১ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমি উঁচু বরেন্দ্র অঞ্চল। তবে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর, নাচোল, গোমস্তাপুর এবং নওগাঁ জেলার পোরশা ও সাপাহারের আবহাওয়া বেশি রুক্ষ এগুলোকে ‘ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র’ বলা হয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ খুব কম। পরীক্ষা করে দেখে দেখা গেছে, এ মাটিতে শতকরা মাত্র ০.৮ থেকে ১.৫ ভাগ জৈব পদার্র্থ রয়েছে। এ মাটিতে নাইট্টোজেন কম, ফসফরাস কম-মধ্যম, পটাশ, গন্ধক ও দস্তা কম-মধ্যম মানের রয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে বেলে বা বেলে দো-আঁশ জাতীয় মাটিতে নেই। এখানে লাল মাটি রয়েছে। পলি অঞ্চলে লাল মাটি দেখা যায় না। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি শুকনো অবস্থায় খুব শক্ত হয়।
বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রচুর খাড়ি (খাল) এবং পুকুর ছিল কিন্তু বর্তমানে এগুলো বেশিরভাগ মাছ চাষে লিজ দেয়া হয়েছে। এর কারণে সেখান থেকে পানি নিয়ে সেচ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া  নদীর পানি শুকিয়ে সেচ কাজে বিঘ্ন হচ্ছে। এ এলাকায় চাষাবাদ করা কঠিন। এজন্য গভীর নলকূপ বসিয়ে অনেক এলাকা চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু বেশি পানি তোলার কারণে এ এলাকার পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। তাই বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার এ এলাকা নিয়ে বিশেষ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এর মধ্যে পাতকুয়া একটি। পাতকুয়া (
Dugwell) হলো ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের নিম্ন পর্যন্ত গোলাকার আকৃতিতে মাটি খনন করে চারপাশ থেকে চুয়ানো পানি (Leaching water) ধরে রাখার আধার। পাতকুয়া হাজার বছরের পুরনো একটি প্রযুক্তি যা ব্যবহার করে  মানুষ তার জীবন ধারণের জন্য বালতির সাথে রশি বেঁধে পানি উত্তোলন করে তা খাবার ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করত।
কিন্তু আধুনিক পাতকুয়াটি মূলত একটি নতুন উদ্ভাবন। এ ধারনাটি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপির। ধারণাটি বাস্তাবায়নের জন্য তিনি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিলে তার নির্দেশক্রমে পাতকুয়া খনন করা হয়েছে এবং এ পাতকুয়া থেকে জনসাধারণ খাবার পানি ব্যবহারের পাশাপাশি সেচকাজে ব্যবহার করার সুফল ভোগ করছে।  এটি খনন আধুনিক ও লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের পরিবর্তে যান্ত্রিক পাওয়ার রিগ, দৈহিক শক্তির পরিবর্তে সোলার শক্তি ব্যবহার করে পানি উত্তোলন, ফ্যানেল আকৃতির কাঠামোতে বৃষ্টির পানি ধরে তা পাতকুয়ায় নির্গমন করে  ভূগর্ভস্থ পানির  স্তরের মজুদ  বৃদ্ধিসহ পাতকুয়াকে খাবার পানির পাশাপাশি সেচ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়া শুরু হয়েছে। নলকূপগুলো  থেকে আজ আর সেভাবে পনি পাওয়া যাচ্ছে না।
এ অঞ্চলে বর্তমানে প্রচুর ফল বাগান তৈরি হচ্ছে এর মধ্যে প্রধান প্রধান হচ্ছে আম, লিচু, কলা, কুল, পেয়ারা। তবে কয়েক বছর ধরে স্ট্রবেরির চাষ এ অঞ্চলে বাড়ছে। সবজি চাষে এরই মধ্যে এ অঞ্চল অনেক অগগ্রতি লাভ করেছে। এর মধ্যে আগাম শিম, লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, পেঁপে, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, আলু, করলা, শসা উল্লেখযোগ্য। অতি সম্প্রতি বরেন্দ্র অঞ্চলের গোদাগাড়ী উপজেলায় লতিরাজ কচু, মাচায় তরমুজ চাষ, ফুল চাষ শুরু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় পলিব্যাগ দিয়ে পেয়ারা উৎপাদন, পেঁয়াজ  বীজ উৎপাদন, মাল্টা, ড্রাগন ফল, মুগ ডাল ব্যাপকভাবে আবাদ শুরু হয়েছে। আর এ কারণে এ অঞ্চলে পানির ঘাটতি হলে তা সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ কারণে পাতকুয়ার মতো প্রযুক্তি এখন সময়ের দাবি।
পাতকুয়া খনন ও ব্যবহারের যন্ত্রাংশ
হাইড্রোলিক পাওয়ার রিগ (বিভিন্ন কাটারসহ); আরসিসি রিং ৪০ ইঞ্চি থেকে ৫০ ইঞ্চি (চাহিদাকৃতি বয়স অনুয়ায়ী); রিং স্থাপনের জন্য উইঞ্চ (winch); ওয়ার রোপ; ৯০০ ওয়াট  থেকে  ১৫০০ ওয়াট  ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল; সোলার পাম্প (পানি উত্তোলনের চাহিদা অনুয়ায়ী ক্ষমতাসম্পন্ন); ২০০০ লিটার থেকে ৩০০০ লিটার ধারণক্ষমতার  ওয়াটার ট্যাঙ্ক; শস্য উৎপাদনের জন্য ভূ-গর্ভস্থ নালা (১ ইঞ্চি থেকে ১.৫ ইঞ্চি  ব্যাসের পাইপ ) প্রায় ৩৫০ মিটার (ইউপিভিসি পাইপ); সেচ কাজের জন্য পানি সরবরাহ  টাপ স্ট্যান্ড (৮-১০টি); খাবার-গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারকল্পে পানির ট্যাপ (প্রয়োজনমতো); ড্রিপ (Drip) স্প্রিংকলার 
(Sprinkler) পদ্ধতিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যে ফ্রেক্সিবল পাউপ  ইমিউর অন্যান্য যন্ত্রাংশ।
পাতকুয়া খনন করার জন্য প্রথমে রিগ মেশিনের সাথে সংযুক্ত ড্রিলিং রডের নিম্ন প্রান্তে ৫০ ইঞ্চি থেকে ৫২ ইঞ্চি ডায়ার কাটার লাগানো হয়। যান্ত্রিক শক্তির মাধ্যমে হাউড্রোলিক পদ্ধতিতে কাটারকে ঘুরিয়ে মাটি কাটা হয়। খননকৃত মাটিকে পানির সাথে মিশ্রিত করে রির্ভাস সার্কুলেশন পদ্ধতিতে কাদা পাম্পের  সাহায্যে তোলা হয়। এভাবে কাক্ষিত গভীরতায় না যাওয়া পর্যন্ত পাতকুয়া খনন কাজ অব্যাহত থাকে। খনন কাজ সম্পন্ন হলে ওয়ার রোপের সাহায্যে  আরসিসি রিং পর্যায়ক্রমে নিচ থেকে ওপরের  দিকে স্থাপন করা হয়। এভাবে পাতকুয়া তৈরি করা হয়।
পাতকুয়া খননের পর পাতকুয়ায় জমা পানি উত্তোলনের জন্য সোলার প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পাম্পের সাহায্যে পানি হেডার ট্যাঙ্কে উত্তোলন করা হয়। হেডার ট্যাঙ্কে উত্তোলিত পানি পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচ, খাবার পানি গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত একটি পাতকুয়ার ৩৫০ মিটার পাইপলাইন থাকে। এ পাইপলাইনে মাঝে মাঝে জমিতে সেচ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আউটলেট নির্মাণ করা থাকে। সেখান থেকে পাশের জমিতে সরাসরি এবং দূরের জমিতে ফিতা পাইপের মাধ্যমে ফসলে সেচ দেয়া হয়। এছাড়া খাবার পানির জন্য কুয়ার পাশে একাধিক ট্যাপ স্থাপন করা আছে। সেখান থেকে স্থানীয় জনসাধারণ খরায় ও গৃহস্থালি কাজে পানি ব্যবহার করে থাকে।
নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার চশসহবত মৌজায় একটি পাতকুয়া খননপূর্বক সৌরশক্তির সাহায্যে পানি উত্তোলনের জন্যে সোলার পাম্প স্থাপন  করা হয়েছে, যার বিবরণ হলো-
কুয়ার গভীরতা : ৭০ ফুট; কুয়ার ব্যাস ৪৪ ইঞ্চি; রিংয়ের গভীরতা ৭০ ফুট + ৩ ফুট (প্লাট ফর্মের উপরে); সোলার প্যানেল  ৯০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন (প্যানেল ৬টি); প্যাম্পের ডিসচার্জ : ১ লিটার  / সে.; প্রতিদিন প্রাপ্ত পানির পরিমাণ : ১৫০০০ থেকে ১৮০০০ লিটার; পাতকুয়া খননের ব্যয় : ৪.৫০ লাখ টাকা; পাম্পসহ সোলার প্যানেল স্থাপন ব্যয় : ৪.১৫ লাখ টাকা; পাইপলাইন নির্মাণ ব্যয়: ১.২৫ লাখ টাকা। (সূত্র : বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত লিফলেট)
পাককুয়া ব্যবহারের সুফল অনেক। এটি ব্যবহারে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর  চাপ কমায় কারণ এ অঞ্চলে যত বেশি গভীর নলকূপের ব্যবহার কমানো যায় ততই মঙ্গল। এছাড়া খরার সময় খরাপ্রবণ এলাকায় স্বল্প সেচের ফসল উৎপাদন ধরে রাখা যায়। বিশেষ করে আগাম শিম, লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, পেঁপে, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, আলু, করলা, শসা এসবের আবাদের জন্য। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার রোধ করে জলবায়ু পারিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব রোধ করা সম্ভব। আর বেশি বৃষ্টির সময় বৃষ্টির পানি ভূগর্ভে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি করানো এবং সংরক্ষণ করা যায়। পাতকুয়া ব্যবহারে আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ খাবার পানি ব্যবহার করা সম্ভব। আর এর সাথে স্থানীয় জনসাধারণের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করানো সম্ভব। যেহেতু পাতকুয়ার পানি উত্তোলন কাজে  বিদ্যুৎ শক্তির পরিবর্তে  সৌরশক্তি ব্যবহার হয় সেহেতু এটি পরিবেশবান্ধব এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে সহায়ক। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের কৃষি হুমকির মুখে পড়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে। সেজন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণাসহ কৃষিতে নানামুখী উদ্যোগ। পাতকুয়ার মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি যদি আরও ব্যবহৃত হয় তবে এ এলাকার কৃষিতে নতুন আলোর সন্ধান দিবে এটি অবশ্যম্ভাবী।

কৃষিবিদ মো. আবদুল্লাহ-হিল-কাফি*
*আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক অফিস, রাজশাহী

বিস্তারিত
আমাদের সমৃদ্ধ সম্পদের প্রতিশ্রুত হাতছানি

মানুষের বিশুদ্ধ ও নিখুঁত শ্রম কখনও বৃথা যায়। এর ফল একদিন না একদিন আসেই। স্বাধীনতার পর ৪৫ বছর ধরে বিনিয়োগকৃত আমাদের সম্মিলিত শ্রম আর বিনিয়োগের ফল অনেক ক্ষেত্রেই আমরা আয়েশিভাবে পেতে শুরু করেছি। কৃষিতে আমদানিকারক বাংলাদেশ এখন ধীরে ধীরে রফতানিকারক দেশে পরিণত হচ্ছে। দুর্যোগে দুর্বিপাকে আমরা হাঁটু গেড়ে স্তব্ধ হয়ে স্থবির হয়ে পড়তাম। খেই হারিয়ে ফেলতাম। এখন আমরা সেসব ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সক্ষমতা অর্জন করেছি এগিয়ে যাচ্ছি সম্মুখ পানে। কৃষি প্রধান দেশে কৃষির উন্নতি সমৃদ্ধি মানে আমাদের সার্বিক সমৃদ্ধি। আমাদের অর্থনীতির চাকা নিত্য সচল আছে কৃষির সিংহভাগ অবদানের জন্য। এভাবে চললে একদিন ঠিকই আমরা মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে বলতে পারব আসলেই বাংলাদেশ গর্বিত কৃষি প্রধান দেশ। কৃষিতে এখন শুধুই জয়জয়কারের ধ্বনী। কৃষিতে আমাদের পরিকল্পনা, গবেষণা, সম্প্রসারণ, বাস্তবায়ন, ব্যবস্থাপনা আর সুষ্ঠু নীতি নির্ধারণের কারণে আমাদের অল্প সময়ে এ অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। আশা করা যায়, কৃষির এ সাফল্য অব্যাহত থাকবে আগামী দিনের জন্য। মনে রাখতে হবে স্থায়িত্বশীল কৃষির যুতসই বৈশিষ্ট্য ছাড়া আমাদের কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না কখনও।
আমাদের কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষি গবেষক, কৃষি সম্প্রসারণবিদ, কৃষি উন্নয়ন কর্মী, কৃষির সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন আবিষ্কার উদ্ভাবন বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন গর্বিত পালক সংযুক্ত করছেন কৃষি উন্নয়ন আর সমৃদ্ধিতে। আর সেগুলো কাজে লাগিয়ে  দেশ আরও এগিয়ে যাচ্ছি দূরের গর্বিত বাতিঘরে।
ধানভিত্তিক সাফল্য
ধান তথা ভাত আমদের প্রধান খাদ্য। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অগ্রগতিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে। এর উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হচ্ছে- হাইব্রিডের ৪টি জাতসহ ৮২টি উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন। এদের ফলন সনাতন জাতের চেয়ে ৩ গুণ বেশি। ব্রি’র এসব উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে লবণাক্ততা সহনশীল ৯টি, আকস্মিক বন্যা মোকাবিলার ২টি, খরাসহনশীল ৩টি, স্বল্প জীবনকালের ৬টি, জিঙ্কসমৃদ্ধ ৪টি, সর্বাধিক ফলনের ৫টি এবং সুগন্ধি ও রফতানি উপযোগী ৪টি জাতসহ ৮২টি জাত এ যাবৎকাল উদ্ভাবিত হয়েছে। আধুনিক ধান চাষের জন্য মাটি, পানি ও সার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ৫০টির বেশি উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে যার সাথে রয়েছে ৩৯টি লাভজনক ধানভিত্তিক শস্যক্রম উদ্ভাবন। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান আবাদে এ যাবত ব্রি ৩২টি কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও উন্নয়ন করেছে। বালাই আক্রমণ থেকে ধানকে রক্ষার জন্য ধানের ১০টি প্রধানসহ ৩২টি রোগ ও ২০টি প্রধানসহ ২৬৬টি ক্ষতিকর পোকা শনাক্তকরণ এবং বালাই ব্যবস্থাপনা উদ্ভাবিত হয়েছে। ধানভিত্তিক জ্ঞানসমৃদ্ধ করে দক্ষ মানুষ দিয়ে ধান উৎপাদনকে আরও বেগবান করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ১ লাখের বেশি কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষককে বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রচারেই প্রসার এ ভাবনাকে মাথায় রেখে ধানবিষয়ক ২৯১টি বইপত্র প্রকাশ বিতরণ করেছে। দেশ-বিদেশের ৮ হাজারের বেশি ধানের জার্মপ্লাজম ব্রি জিন ব্যাংকে সংরক্ষণ করে আমাদের ভবিষ্যত ধান প্রজন্মকে টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি বছর ব্রি থেকে প্রায় ১০০ টন ব্রিডার বীজ উৎপাদন করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করা হয় যা পরে আরও বাড়িয়ে বীজ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারাদেশের কৃষকের কাছে চলে যায়।
তথ্য বলে, দেশে আবাদকৃত উফশী ধানের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত ধানের জাত চাষ করা হয় এবং এ থেকে পাওয়া যায় দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯১ ভাগ। আর সেকারণেই ১৯৭০-৭১ সালে এদেশে চালের উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টন। ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন। ধান গবেষণা ও সম্প্রসারণে প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগ থেকে ৪৬ টাকা মুনাফা অর্জন। গর্বের সাথে বলতে হয়, বর্তমানে বিশ্বের ১৪টি দেশে ব্রি উদ্ভাবিত ১৯টি জাতের ধান চাষ করা হচ্ছে।
আর জাতওয়ারি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কথা যদি বলি তাহলে দাঁড়ায় ব্রি এ যাবত ৪টি হাইব্রিড, ৭৮টি ইনব্রিড মোট ৮২টি জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে আউশ+আমন+বোরো ১টি জাত আউশ+বোরো ২ মৌসুমের জন্য ১১টি জাত, বোরো মৌসুমের জন্য ২৩টি জাত, আউশের জন্য ১০টি জাত, আমনের জন্য ৩৫টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। বোরো মৌসুমের সুগন্ধি জাত ব্রি ধান৫০। বোরো মৌসুমে লবণাক্ত সহিষ্ণু জাত ব্রি ধান৪৭, ব্রি ধান ৬১, ব্রি ধান ৬৭। বোরো আগাম জাত বিআর৭, ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান৪৫। বোরোতে সবচেয়ে জনপ্রিয় মেগা জাত ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান২৯। জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধান-ব্রি ধান ৬২, ব্রি ধান৬৪, ব্রি ধান৭২, ব্রি ধান৭৪। জিঙ্ক সমৃদ্ধ বোরো ধান- ব্রি ধান৬৪, ব্রি ধান৭৪। জিঙ্ক সমৃদ্ধ আমন ধান- ব্রি ধান৬২, ব্রি ধান৭২। বোরো ঠাণ্ডা সহিষ্ণু জাত- ব্রি ধান৩৬। হাওর এলাকা উপযোগী জাত-বিআর১৭, বিআর১৮, বিআর১৯। আমনে সরু ও সুগন্ধি জাত-বিআর৫, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৩৭, ব্রি ধান৩৮, ব্রি ধান৭০। আমন মৌসুমে লবণাক্ত সহিষ্ণু জাত- ব্রি ধান৪০, ব্রি ধান৪১, ব্রি ধান৫৩, ব্রি ধান৫৪, ব্রি ধান৭৩, ব্রি ধান৭৭। আমনে স্বল্প জীবনকাল ও খরা সহনশীল জাত ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৪৭ ব্রি ধান৫৭, ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১। আমনে জলমগ্নতা সহনশীল জাত- ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২। নাবি আমন জাত বিআর২২, বিআর২৩, ব্রিধান৪৬। আমণে অলবণাক্ত জোয়ার ভাটার জাত ব্রি ধান৭৬, ব্রি ধান৭৭। আমনে সর্বাধিক জনপ্রিয় জাত মেগা ভ্যারাইটি- বিআর১১, ব্রি ধান৪৯। বোনা আউশের জাত বিআর২১, ব্রি ধান৪২, ব্রি ধান৬৫। রোপা আউশের জাত বিআর২৬, ব্রি ধান ২৭, ব্রি ধান৪৮, ব্রি ধান৫৫। শিলাপ্রবণ এলাকা উপযোগী জাত- বিআর ৮, বিআর৯। ব্রি হাইব্রিড জাত-ব্রি হাইব্রিড ধান১, ব্রি হাইব্রিড ধান২, ব্রি হাইব্রিড ধান৩ বোরো মৌসুমের জাত। ব্রিধান ৭২ জাতের বৈশিষ্ট্য হলো নিচু থেকে মাঝারি উঁচু জমিতে আমন ধান কাটার পর গম, সরিষা, ডাল আবাদ করা হয় সে জমিতে ব্রিধান৭২ চাষ করা হয়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও  ধান উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ জাতগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ব্রি উদ্ভাবিত দুইটি ধানের জাত  বিআর১৬ এবং বিআর২৫ লো জিআই বা নি¤œ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গুণ সম্পন্ন। লো জিআই খাবার ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য নিরাপদ। এক সময় ধানের জাত আবিষ্কার করা হতো শুধু খাবারের চাহিদা মেটানোর জন্য। আর এখন আমরা বিলাসিতা করে ভাবছি অন্যান্য আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্যর ধানের জাত উদ্ভাবন আর আবিষ্কারের দিকে।
অন্যান্য ফসলে সাফল্য
সফলতার সাথে উচ্চফলনশীল জাতসহ অন্যান্য কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে আসছে আমাদের বিজ্ঞানীরা। দেশের জলবায়ু ও কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী বিএআরআই এ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ৪৭৯টি উচ্চফলনশীল জাত এবং ৪৪২টি ফসল উৎপাদনের প্রযুক্তিসহ মোট ৯২১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। দানাজাতীয় ফসল ৬৮, তেলজাতীয় ফসল ৪৩, ডালজাতীয় ফসল ৩৬, কন্দাল ফসল ১০০, সবজি ফসল ১০৯, ফল ৭৪, ফুল ১৬, মশলা ২৬, আঁশজাতীয় ০৬, নেশাজাতীয় ০১ মোট ৫৭৯৮টি ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। উৎপাদন প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে ফসল, মাটি, রোগবালাই এবং পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা ১৯৪, কৃষি যন্ত্রপাতি ৩৩, সেচ এবং পানি ব্যবস্থাপনা ৩৫, শস্য সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি ২৮, ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ ১৩৪, জীব প্রযুক্তি ১৮। মোট ৪৪২টি। সর্বমোট প্রযুক্তি (উদ্ভাবিত জাত+উৎপাদন প্রযুক্তি) : বিএআরআই এ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ৪৭৯টি উচ্চফলনশীল জাত এবং ৪৪২টি ফসল উৎপাদনের প্রযুক্তিসহ মোট ৯২১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ডাল, তেলবীজ, সবজি, ফলের ১০ হাজারের অধিক কৌলিসম্পদ (জার্মপ্লাজম) জিন ব্যাংকের মাধ্যমে সংরক্ষণ করছে।
পরমাণুভিত্তিক সাফল্য
বিনা কর্তৃক ৯টি ফসলের ৪২টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। বিনাছোলা- ৫ ও ৬, বিনামসুর-৪; ২০১০ : বিনাধান-৮ (লবণসহনশীল), বিনামুগ-৮, বিনাটমেটো-৬; ২০১১ বিনাসরিষা- ৭ ও ৮, বিনাতিল-২, বিনাসয়াবিন-১ ও ২, বিনামসুর-৫ ও ৬, বিনাটমেটো-৭, বিনা চীনাবাদাম-৫ ও ৬; বিনাধান ৯ ও বিনাধান-১০ (লবণসহনশীল); বিনাছোলা- ৭ ও ৮; বিনাটমেটো-৮, ৯ ও ১০; বিনাসয়াবিন-৩ ও ৪; বিনাতিল-৩; বিনামসুর-৭; বিনাধান- ১১ ও ১২ (বন্যা সহনশীল), ১৩ ও ১৪; বিনাসরিষা- ৯ ও ১০; ২০১৪ : বিনাধান-১৫ ও ১৬; বিনা চীনাবাদাম- ৭, ৮ ও ৯; বিনামসুর- ৮ ও ৯; বিনাধান-১৭, বিনাধান-১৮।
সোনালি আঁশের সাফল্য
বিজেআরআই-পাট ও পাট জাতীয় আঁশ ফসলের ৭টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে তোষা পাটের ২টি, দেশি পাটের ৩টি, কেনাফের ১টি এবং মেস্তার ১টি। উদ্ভাবিত জাতগুলো কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারিত হলে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া পাট পচনের আপদকালীন প্রযুক্তি হিসেবে পাওয়ার রিবনার, স্বয়ংক্রিয় জুট রিবনার, শীতকালীন সবজির সাথে পাট বীজ উৎপাদন, কৃষি বনায়ন পরিবেশে নাবি পাট বীজ উৎপাদন, নিমপাতার রস দিয়ে পাটের হলুদ মাকড় দমন এবং বাটা রসুনের সাহায্যে পাটবীজ শোধন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। স্বল্প মূল্যের হালকা পাটের শপিং ব্যাগ, প্রাকৃতিক উৎস থেকে রঙ আহরণ করে পাটপণ্য রঞ্জন পদ্ধতি, পাটজাত শোষক তুলা, অগ্নিরোধী পাট বস্ত্র, জুটপ্লাস্টিক কম্পেজিটসহ ৬টি নতুন পাটপণ্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়ন করা হয়েছে এবং সিনথেটিক উলের বিকল্প পাটউল ও পাট উলজাত সোয়েটার, পাটতুলা ও পাট তুলাজাত, সেনিটারি ন্যাপকিন, বেবি ন্যাপকিন, বিভিন্ন ইনসুলেটিং ম্যাটেরিয়াল, পাট এবং তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বিভিন্ন পাটজাত টেক্সটাইল পণ্য যেমন পর্দার কাপড়, বেড কভার, সোফা কভার, জিন্স এসব পণ্যের মান উন্নয়ন করা হয়েছে।
মিষ্টিভিত্তিক সাফল্য
বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট এ যাবত আখের ৪৫টি উপযোগী জাত, ১০৫ এর বেশি সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি, সুগারবিটের ১৭টি জাত আনয়ন, তাল খেজুর, গোলপাতা, স্টেভিয়ার জাত উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার যোগ্যফল আমরা প্রতিনিয়ত পাচ্ছি।
অন্যান্য সাফল্য
একই সাথে কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন সংস্থা-দপ্তর অধিদপ্তর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউ, হর্টেক্স ফাউন্ডেশন, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি তাদের মেধাবী জনবলের মাধ্যমে জ্ঞান মেধা দক্ষতা আন্তরিকতা দিয়ে আবিষ্কার উদ্ভাবন সম্প্রসারণ করে স্ব মহিমায় উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছে। কৃষিবান্ধব তথ্য প্রযুক্তিগুলো কাজে লাগিয়ে বাস্তবায়ন করে দেশের কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে। এ যাবতকাল কৃষিতে আমাদের সাফল্যগাথায় সংযুক্ত আছে। বর্তমানে দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসর্ম্পূণতা অর্জন করেছি। বার্ষিক খাদ্য শস্য চাল, গম, ভুট্টা মিলে উৎপাদন ৩ কোটি ৮৪ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন যা ১৯৭১ সালে ছিল ১ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। ধান উৎপাদনের সাফ্যল্যজনক ধারাবাহিকতার কারণে বর্তমানে ধান উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ চতুর্থ। আর আমরা এখন বিদেশে চাল রপ্তানিও করছি। শুধু কি তাই? সাহায্য আর খয়রাতি হিসেবে বিদেশে চাল সহায়তা দিচ্ছি। সবজি উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ তৃতীয়। ২০১৫-১৬ বছরে মোট সবজি উৎপাদন ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন। সবজির মধ্যে আলু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০১৫-১৬ বছরে আলু উৎপদান ১ কোটি ৩ লাখ ৪ হাজার  মেট্রিক টন ও মিষ্টিআলু উৎপাদন ৭ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন। কম সময়ে ফলবান খাটো জাতের নারিকেলের প্রবর্তন করা হয়েছে বিশেষকরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এ জাতের আবাদ বাড়ছে।  দেশীয় ও তোষা পাটের জীবনরহস্য আবিষ্কার এবং পাটসহ ৫ শতাধিক ফসলের ক্ষতিকর ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। ফসলের  প্রতিকূলতা সহিষ্ণু ও উচ্চফলনশীল নতুন জাত উদ্ভাবন ১৫৬টি। বোরো ধানের উচ্চফলনশীল  বীজ সরবরাহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বোরো ধানের উফশী বীজ ২০১৫-১৬ বছরে জাতীয় চাহিদার ৮৫.৯৮% নিশ্চিত করেছে, ২০০৮-০৯ বছরে এ সরবরাহ ছিল মাত্র ৩৮%। সেচ সুবিধা  সম্প্রসারিত হয়ে ৯ লাখ ৮১ হাজার ১৯৮ হেক্টরে উন্নিত হয়েছে। সার, জ্বালানি ও সেচ কাজে বিদ্যুতের  ভর্তুকি প্রদান ৫৬ হাজার ৭৬৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। খামার যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি প্রদান ১৬৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান ২  কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন। খুচরা সার বিক্রেতা  নিয়োগ ৩৬ হাজার ৩৪৯ জন। ১০ টাকায় কৃষকের ব্যাংক একাউন্ট  খোলা ১  কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৪৮টি। ৪ দফা  ননইউরিয়া সারের মূল্য কমিয়ে টিএসপি ২২ টাকা, এমওপি ১৫ টাকা, ডিএপি ২৫ টাকা মূল্য নির্ধারণ। নিয়োগ-কর্মসংস্থান ৭ হাজার ৭১৬ জন। মাটি ও জলবায়ু ভিত্তিতে ফ