কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কৃষি কথা

ফসলের মাঠে মৌ পালন, অর্থ পুষ্টি বাড়বে ফলন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব এবং মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, এমপি মহোদয়ের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় দেশ আজ দানাজাতীয় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো এ দেশের মানুষের জন্য পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন। সে ক্ষেত্রে তেলজাতীয় ফসল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। তেলজাতীয় ফসলের মাঠে মৌ চাষ করলে একদিকে ফসলের পরাগায়ন বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ২০-৩০% বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার মধু উৎপাদিত হয়। মৌ চাষের প্রচলিত ধারণা মধু উৎপাদনের জন্য হলেও মধুর আয়ের চেয়ে ৭০-৮০ গুণ অধিক অর্থ আসে পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের ফলন বৃদ্ধিতে।


মৌমাছি একটি ক্ষুদ্র পতঙ্গ অথচ এর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্ময়কর। আমাদের দেশে ৪টি প্রজাতির (Apis florea, Apis cerama, Apis mellifera I Apis dorsata) মৌমাছি পাওয়া গেলেও বর্তমানে মৌ চাষে এপিস মেলিফেরা (Apis mellifera) প্রজাতির মৌমাছি ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি মৌ বাক্স থেকে বছরে গড়ে প্রায় ২০ কেজি মধু উৎপাদিত হয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য (৩০০ টাকা/কেজি) প্রায় ৬,০০০ টাকা। এছাড়া পরাগায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে ফসলের ফলন প্রায় ২০-৩০% বৃদ্ধি পায়। দেশে সরিষাসহ তেলজাতীয় ফসলের প্রায় ৬ লক্ষ হেক্টর আবাদি জমিতে হেক্টরপ্রতি একটি মৌ-বাক্স স্থাপন করলে প্রায় ১২,০০০ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনসহ ফসলের ন্যূনতম ১০% ফলন বৃদ্ধি বিবেচনায় প্রায় ৭০,০০০ মেট্রিক টন অধিক তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন সম্ভব।


মধু অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থসহ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় স্বীকৃত ও প্রমাণিত। মধুতে প্রায় ১৮১ ধরনের রাসায়নিক উপাদানসহ বিভিন্ন এনজাইম ও ভিটামিন রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ পুষ্টির জোগান দেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত মধু ভারত ও জাপানসহ অন্যান্য দেশেও রফতানি হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশে একাধিক মধু প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্টও স্থাপিত হয়েছে।


বর্তমানে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪-৫ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদিত হচ্ছে অথচ সম্ভাব্যতা প্রায় ৪০-৫০ হাজার মেট্রিক টন। দেশে বিসিকসহ আরও কিছু সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মৌ চাষ উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দেশের গ্রাম বাংলার সব শ্রেণীর কৃষক সমাজকে সম্পৃক্ত করে ফসলের ফলন ও মধুর উৎপাদন বৃদ্ধিসহ গ্রামীণ আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে মৌ চাষ সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ‘চাষি পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প-২য় পর্যায়’ এর মাধ্যমে ফসল ও মধুর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা দেশে মৌ চাষ সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যার মধ্যে সংস্থার ৬০০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (টিওটি) ও ২,৫০,০০০ কৃষককে মৌ পালনের ওপর ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ প্রদান উল্লেখযোগ্য। সমাপ্ত প্রায় প্রকল্পটির সফলতায়- এর পরবর্তীতে ‘কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প-৩য় পর্যায়’ এর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে মৌ পালন কার্যক্রমকে আরও ত্ব